নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসাদ উদ্দিন আহমদ। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি। শুক্রবার যখন নগরীর মধুশহীদে ইসকন মন্দিরে মুসল্লিদের হামলার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসেন। বিচক্ষণতার মাধ্যমে পুলিশ-মুসল্লি আর ইসকন ভক্তদের নিবৃত্ত করে সামাল দেন পুরো পরিস্থিতি। যার ফলে পুরো সিলেট রক্ষা পায় বড় ধরণের সাম্প্রদায়িক সংহিসতার হাত থেকে।
ঘটনার শুরুটা ছিলো শুক্রবার জুমার নামাজের সময়। তখন মধুশহীদ জামে মসজিদের বিপরীতে ইসকন মন্দিরে ‘ভক্তবেদান্ত ন্যাশনাল স্টুডেন্টস কম্পিটিশন’ এর বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা চলছিল। ওই সময় মন্দিরের ভেতর থেকে উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ আসছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মুসল্লিরা।
তারা নামাজের পর সীমানা প্রাচীরের বাইরে থেকে ইসকন মন্দির লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এসময় তারা রাস্তার উপর নির্মিত ইসকনের একটি গেইট ও পার্শ্ববর্তী একটি ডেন্টাল ক্লিনিক ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছুঁড়ে।
মো. আসাদ উদ্দিন তখন ছিলেন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে। মন্দিরে হামলার খবর পেয়েই তাৎক্ষণিক তিনি ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। তিনি পুলিশ ও মুসল্লিদের নিবৃত্ত করে সংঘর্ষ থামান। পুলিশকে গুলি করতে বারণ করেন। এবং স্থানীয়দের শান্ত করে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরিয়ে নেন। এসময় এলাকাবাসীকে আশ্বাস দেন, পুলিশের হাতে আটককৃতদের ছাড়িয়ে দেওয়ারও। এ বিষয়ে তিনি কথা বলেন মহানগর পুলিশের কমিশনারের সাথেও।
পরে তারই প্রচেষ্টায় সিলেট স্টেডিয়ামের জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্মেলন কক্ষে এলাকাবাসীর সাথে বৈঠক করেন সিলেট মহানগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। বৈঠক থেকে অনাকাঙ্খিত এই ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া আলোচনার ভিত্তিতে ঘটনার সময় আটককৃতদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়।
ওই বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার এস এম কামরুল ইসলাম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম ঝলক, কাউন্সিলর এস এম আবজাদ হোসাইন সাবেক কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধার আবদুল খালিকসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক নারী কাউন্সিলর জেবুন্নাহার শিরিনসহ ৫ জন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অন্তত ২০ জনকে আটক করেছিল।