ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে পিষ্ট কিউবা, ‘ গাজা’র মতো পরিলতির শঙ্কা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 8, 2026 ইং
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে  পিষ্ট কিউবা, ‘ গাজা’র মতো পরিলতির শঙ্কা ছবির ক্যাপশন: চলতি বছরের জুন থেকে কিউবার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চলতি বছরের জুন থেকে কিউবার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে জানুয়ারিতে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন। পাশাপাশি দেশটির অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। এতে কিউবার চলমান মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। গত ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপগুলো বিশেষভাবে জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে। এর ফলে মানবিক প্রয়োজনেও কিউবার জন্য জ্বালানি আমদানি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সময়ে দেশটি তীব্র জ্বালানি সংকট ও বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কিউবা ‘আরেকটি গাজা উপত্যকায়’ পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে নিযুক্ত একদল বিশেষজ্ঞ। গত মাসে কিউবা সফর করা মার্কিন কংগ্রেসের চার সদস্যও দেশটির বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে গাজার তুলনা করেছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যকে কখনোই রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কিউবায় জ্বালানি, পরিবহন, সেচ ও মৌলিক সেবাগুলো একসঙ্গে ভেঙে পড়ছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নারী, শিশু, বয়স্ক ও গ্রামীণ কৃষকদের ওপর।

হাভানার বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার খবরও উল্লেখ করেছেন তারা। এতে রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের ভাষ্য, কিউবার মানবিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই পূর্ণমাত্রার সংকটে রূপ নিয়েছে। এতে দেশটির মানুষের স্বাস্থ্য, জীবন, খাদ্য ও উন্নয়নের অধিকার গুরুতরভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে কিউবা নিয়ে মার্কিন নীতির পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ কলম্বিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। নতুন নিরাপত্তা প্যাকেজের আওতায় কলম্বিয়াকে ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, দুই শতাব্দীরও বেশি সময়ের বন্ধুত্বের ভিত্তিতে নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প প্রশাসন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া এবং পুরো পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কলম্বিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সক্ষম করে তোলা হবে। একই সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়ানো, দুই দেশের সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি এবং মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে।   অন্যদিকে, গত ২০ জুলাই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘Cuba: The Capital of 21st-Century Communism’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে কিউবার একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বহুমাত্রিক হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের দাবি, কিউবা সন্ত্রাসবাদ বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন দেয়—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। তাদের আশঙ্কা, নিরাপত্তাগত কারণের চেয়ে রাজনৈতিক ও আদর্শিক উদ্দেশ্যই কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপের পেছনে বেশি ভূমিকা রাখছে।


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স
Logo

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে পিষ্ট কিউবা, ‘ গাজা’র মতো পরিলতির শঙ্কা

dailyneighbour.com
নিউজ লিংক কমেন্টে
Aug 8, 2026