জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংশোধন করে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আইনি দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উত্তরাধিকার ও ভোটাধিকারসহ মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উত্তরাধিকার এবং ভোটাধিকারের মতো মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অপরিহার্য। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, সুশাসন এবং বাজেট প্রণয়নেও নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে দেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার যথাক্রমে ৫০ ও ৪৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। তবে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার শতভাগে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বক্তারা বলেন, বর্তমান আইনে জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব কেবল পরিবারের ওপর ন্যস্ত, স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর নয়। অথচ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে আইনগতভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হলে সেসব প্রতিষ্ঠানে জন্ম নেওয়া দেশের প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুকে সহজেই নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অনেক দেশ এই পদ্ধতি অনুসরণ করেই শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন করেছে।
জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘শতভাগ নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে আইনগতভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রদানের কোনো বিকল্প নেই।’
ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আইন শক্তিশালী করার পাশাপাশি এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য জনবল সংকট, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং আন্তঃখাত সমন্বয়হীনতা দূর করা জরুরি।’
ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন বলেন, ‘নিবন্ধন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও জনভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ করতে হবে, যা নীতিগত পরিবর্তনে ইতিবাচক চাপ সৃষ্টি করবে।’
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রজ্ঞার কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
