উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক আকাশে এখন একটাই প্রশ্ন—বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ব্যাটন শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠতে যাচ্ছে? মাঠের রাজনীতিতে পোড়খাওয়া তার অনুজ মির্জা ফয়সাল আমিন, নাকি বড় কন্যা গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. শামারুহ মির্জা? ঠাকুরগাঁও-১ আসনকে কেন্দ্র করে চায়ের কাপ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র শোরগোল ও জোর জল্পনা।
ঠাকুরগাঁও সদর, ভুল্লি ও রুহিয়া নিয়ে গঠিত এ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘মির্জা পরিবারের ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত। মির্জা ফখরুলের বাবা মরহুম মির্জা রুহুল আমিনের আমল থেকেই এ অঞ্চলে পরিবারটির রাজনীতির মজবুত ভিত্তি তৈরি হয়। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে সেই ভিত্তি আরও শক্তিশালী রূপ নেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
দলের জেলাপর্যায়ের নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, মাঠের রাজনীতি ও সংগঠন পরিচালনায় মির্জা ফয়সাল আমিনের বিকল্প নেই। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির এ শীর্ষ নেতা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আন্দোলন-সংগ্রাম ও স্থানীয় রাজনৈতিক কাঠামো ধরে রাখতে তার অভিজ্ঞতা অনস্বীকার্য।
অন্যদিকে আলোচনায় সমানভাবে উঠে আসছে ফখরুলকন্যা ড. শামারুহ মির্জার নাম। পেশায় শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত এ গবেষক প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে এতদিন না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক ও নাগরিক নানা কর্মসূচিতে নজর কেড়েছেন। তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এবং নারী ভোটারদের মধ্যে তার একটি পরিচ্ছন্ন ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, যা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরসূরি নির্বাচনের এ সিদ্ধান্ত শুধু একটি পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং জেলার সার্বিক রাজনৈতিক ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত। একদিকে তৃণমূলকে সুসংগঠিত রাখার অভিজ্ঞ নেতৃত্বের দাবি, অন্যদিকে পরিবর্তিত রাজনীতিতে তরুণ ও আধুনিক চিন্তার প্রতিনিধিত্ব—এ দুইয়ের মাঝে দলীয় নেতাকর্মীরা কিছুটা দ্বিধাবিভক্ত।
তবে এ দ্বিমুখী আলোচনার শেষ পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করছে বিএনপির হাইকমান্ড এবং খোদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিদ্ধান্তের ওপর। ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা আপাতত সেদিকেই চোখ রাখছেন।