
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে কিছু লোক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখির পাশাপাশি সভা করে তাঁরা এ দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লাউতা ইউনিয়নে লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুব সমাজের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে। এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ২৮ আগস্ট এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
চলতি বছর নৌকাবাইচের বিষয়টি প্রচার হওয়ার পরপরই এক সপ্তাহ ধরে ‘লাউতা ইউনিয়ন তৌহিদি জনতা’-এর ব্যানারে কিছু ব্যক্তি প্রতিযোগিতাটি বাতিলের দাবি জানিয়ে ফেসবুকে প্রচার চালাচ্ছেন। পাশাপাশি একই ব্যানারে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় বারইগ্রাম বাজার মসজিদে একটি সভা করেও তাঁরা এ দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, নৌকাবাইচের আয়োজন দেখতে প্রতিবছরই স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের লোকজন আসেন। এ আয়োজন ধরে একটা উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। অতীতে এমন আয়োজনে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। এবারই আয়োজকেরা বাধার মুখোমুখি হয়েছেন।
এ বিষয়ে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘ইউএনও মহোদয় দুই পক্ষকে নিয়ে আজ শনিবার বেলা পাঁচটায় তাঁর কার্যালয়ে যেতে বলেছেন। উভয় পক্ষের খোঁজ নিচ্ছি। নিশ্চয়ই আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টির সমাধান হবে।’
বিষয়টি নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদারের সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো। তিনি বলেন, বিষয়টা যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, এ রকম নয়। এটা বড় কোনো বিষয় নয়। এখানে ঐতিহ্যগতভাবেই দীর্ঘদিন ধরে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে। সম্প্রতি এক ‘হুজুর’ এটা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। বলেছেন, গ্রামীণ এ আয়োজনে প্রায়ই মারামারি হয়। তাই এ বাইচ না হওয়ার দাবি তিনি করেছেন।’
ইউএনও আরও বলেন, ‘নৌকা বাইচের কারণে নদীর পাড়, আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় বছরই মারামারি হয়। গত বছরও মারামারির কারণে বাইচ হয়নি। সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে এক পক্ষ চাচ্ছে নৌকাবাইচ বন্ধ হোক। তবে আরেক পক্ষ চাচ্ছে বাইচ হোক। বিষয়টা লোকাল একটা ইস্যু। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে অনুমতি নিয়েই আয়োজকদের নৌকাবাইচ করতে হবে। তাই এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে নাকি হবে না, সেটা আমরাও বিবেচনা করে দেখব।’