
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
পৈতৃক সম্পত্তির অংশ ফিরে পেতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তর ও স্থানীয় সালিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের বাঙ্গড্ডা দক্ষিণপাড়া মজুমদার বাড়ির সাইফুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি স্বজনরা ভোগদখলে রেখেছেন। একাধিকবার সালিশ, জমি পরিমাপ ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো তিনি তাঁর দাবিকৃত জমির দখল বুঝে পাননি।
সাইফুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মোবারক হোসেনের ছেলে। তাঁর দাবি, পরিকোট মৌজায় ২৭ শতক এবং বাঙ্গড্ডা মৌজায় ১২ শতক জমিতে তাঁর পৈতৃক অধিকার রয়েছে। তবে তাঁর চাচা অহিদুর রহমান মজুমদার, শাহ আলম, মাহে আলম, মাহবুবুর রহমান ও রবিউল হক মজুমদার ওই সম্পত্তি ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
সাইফুলের অভিযোগ, নিজের জমির দখল বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করলে বিভিন্ন সময় তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি কয়েক দফা হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে এবং পুলিশের মধ্যস্থতায় একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে তা কার্যকর হয়নি বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলায় সাইফুলের ওপর আবারও হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন গিয়ে তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এর আগে অহিদুর রহমানের বায়রা ভাই মাহবুবুল হকের মাধ্যমে তাঁর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগও করেন সাইফুল। এসব ঘটনায়ও তিনি বিচার পাননি বলে দাবি তাঁর।
স্থানীয় সূত্র ও সাইফুলের ভাষ্য অনুযায়ী, নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গণেশ চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হয়েছে। একপর্যায়ে সরেজমিনে গিয়ে জমি পরিমাপও করা হয়। তবে এরপরও সাইফুল তাঁর দাবিকৃত সম্পত্তির পুরোপুরি দখল বুঝে পাননি।
‘মানবিক বিবেচনায় সহযোগিতা’ করার কথা সালিশে
অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাদের কাছে কোনো সম্পদ পাবে না। সালিশে বলা হয়েছে, মানবিক বিবেচনায় তাকে সহযোগিতা করতে। সে জমি পাবে মাহে আলমের কাছে।”
মাহে আলম বলেন, “আমি তো দিতে রাজি, তারা দিচ্ছে না, সেও নিচ্ছে না।”
সালিশদার বাহার আহমেদ বলেন, “থানা থেকে আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজারের আংশিক জায়গা পরিমাপ করে দেওয়া হলেও বাকি জায়গাগুলো মাহে আলম ও তাঁর বড় ভাইয়েরা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না।”
স্থানীয় সমাজপতি সাইদুল হক, কালা মিয়া ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাইফুলের সম্পত্তির বিষয়টি নিয়ে তাঁরা একাধিকবার বসেছেন। সালিশে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা হয়েছে। এরপরও কেন তাঁকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না, তা তাঁদের বোধগম্য নয়। তাঁরা বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করে সাইফুলের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
পুলিশের বক্তব্য
নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গণেশ চন্দ্র শীল বলেন, “বিষয়টি সমাধানের জন্য সামাজিকভাবে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা কী করেছে, সেটা আর আমাকে জানায়নি।”
বর্তমানে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন সাইফুল। তাঁর দাবি, পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাঁকে।
সাইফুলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সালিশ ও সমঝোতার উদ্যোগ চললেও তাঁর পৈতৃক সম্পত্তির বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তিনি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনগতভাবে প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।