পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, তার চাঁদাবাজি পরিচালনার সুনির্দিষ্ট একটি চক্র ও পদ্ধতি ছিল। প্রথমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী, প্রবাসী এবং নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের মালিকদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে টার্গেটকৃত ব্যবসায়ীদের গতিবিধির নিখুঁত বর্ণনা দেওয়া হতো—যেমন তিনি বর্তমানে কী রঙের পোশাক পরেছেন কিংবা তার পরিবারের সদস্যরা কে কোথায় চলাচল করছেন। কথামতো চাঁদার টাকা না দিলে ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের বাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর বা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হতো। ভয়ে ভুক্তভোগীরা ঝামেলা এড়াতে মুখ না খুলে নগদ টাকায় সমঝোতা করে চাঁদা পরিশোধ করতেন।
অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানিয়েছেন, ইমনের চাঁদাবাজির মাসিক হিসাব ছিল প্রায় এক কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫০ লাখ টাকা পাঠানো হতো বিদেশে পলাতক তার গুরু সাজ্জাদ আলীর কাছে (যা হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হতো), ১৫ লাখ টাকা খরচ হতো দল পরিচালনার পেছনে এবং বাকি টাকা ইমন নিজে রাখতেন।
ইমন পুলিশকে আরও জানিয়েছেন যে তার বাহিনীতে প্রায় সহস্রাধিক সহযোগী ও অন্তত ৫০ জন সক্রিয় শুটার রয়েছে। তবে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী হুন্ডির মাধ্যমে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মৃত ওমানপ্রবাসী মো. মুসার ছেলে ইমন। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদ’-এর মাধ্যমে অপরাধ জগতে পাকাপোক্তভাবে যুক্ত হন তিনি। গত বছর বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী ‘ছোট সাজ্জাদ’ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান যৌথভাবে চট্টগ্রামের এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নেন।
ইমনের বিরুদ্ধে বাকলিয়ার জোড়া খুন এবং পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকার ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ অন্তত ১৫টি গুরুতর মামলা রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ ইমন সাধারণত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রাখতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে পুলিশ তাঁর হুন্ডি চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।