ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভারতের পানিতে ডুবল আখাউড়া

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 24, 2026 ইং
ভারতের পানিতে ডুবল আখাউড়া ছবির ক্যাপশন:
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোর থেকে ত্রিপুরার পানিতে আখাউড়া সীমান্তবর্তী তিনটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের ধারণা, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ডুম্বুর বাঁধের স্লুইসগেট খুলে দেওয়ায় বাঁধভাঙা পানির ঢলে আকস্মিক এ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোমবার ভোর থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা বাঁধভাঙা ঢলের কারণে পানি বাড়তে শুরু করে। এতে আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী মোগড়া, মনিয়ন্দ ও দক্ষিণ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, কাস্টমস হাউস ও স্থলবন্দর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

এ ছাড়া আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দর সড়কে এখনো পানি ওঠেনি। ফলে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যালয়ে পানি ঢুকেছে। তবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বন্দর এলাকার খাবারের হোটেল ও সীমান্তবর্তী অনেক বাড়িঘরেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া স্থলবন্দর এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালন্দি খাল ও জাজি নদী দিয়ে ভারতীয় ঢলের পানি দ্রুত বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এতে সীমান্তঘেঁষা মোগড়া, দক্ষিণ, মনিয়ন্দ ও ধরখার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আখাউড়া-আগরতলা সড়কের দুই পাশের কালিকাপুর, বীরচন্দ্রপুর, আবদুল্লাহপুর, বঙ্গেরচর, রহিমপুর, সাহেবনগর, আদমপুর, খলাপাড়া ও কর্নেল বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, আখাউড়া উপজেলার হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় নদীপাড়ের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন।

আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রহিম বলেন, সীমান্তবর্তী গ্রামের অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে। তবে ত্রিপুরা রাজ্যের বাঁধভাঙা পানির সঙ্গে এখন বৃষ্টি হলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। আর বৃষ্টি না হলে দ্রুতই ঢলের পানি নেমে যাবে এবং দুর্ভোগ কমে আসবে।

আখাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শাহিনুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, আখাউড়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন—মোগড়া, দক্ষিণ ও মনিয়ন্দের পাঁচটি গ্রামের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে বৃষ্টি না হলে ধীরে ধীরে পানি কমে আসবে বলে তিনি মনে করছেন।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া যুগান্তরকে বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ জুলাইয়ের ইশত

Logo

ভারতের পানিতে ডুবল আখাউড়া

dailyneighbour.com
নিউজ লিংক কমেন্টে
Aug 24, 2026