কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ি এলাকার প্রায় তিন বিঘা পরিত্যক্ত একটি বাড়িকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গহীন জঙ্গল ও ঘন ঝোপঝাড়ে ঘেরা জায়গাটিতে দিনের বেলাতেও সাধারণ মানুষ যেতে সাহস পান না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকা থেকে অটোচালকদের ভাড়া করে এনে নির্জন এই বাড়িতে আটকে রেখে রাতের আঁধারে হত্যার ঘটনা ঘটছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো এখনো পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
সম্প্রতি ওমরগঞ্জ বাজারের অটোচালক মেহেদী হাসান গত ৭ আগস্ট নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ১২ আগস্ট ওই পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনে।
এরই মধ্যে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আসামিদের রিমান্ডে দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে খবর ছড়িয়ে পড়ে, নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রবপুর ইউনিয়নের টুয়া গ্রামের আরমান নামের আরও এক কিশোরকে ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে।
খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মজুমদার ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে স্থানীয়দের পাশাপাশি আইআর টিভি নিউজ বাংলার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত হন।
পরে বিষয়টি নাঙ্গলকোট থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালায়। তবে তল্লাশিতে এখন পর্যন্ত আরমানের মরদেহের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই আরমান নামের ১৪–১৫ বছর বয়সী এক অটোচালক কিশোর অটোসহ নিখোঁজ হয়। সম্প্রতি নিহত মেহেদীর অটো যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, একই স্থান থেকে আরমানের অটোটিও উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। তবে নিখোঁজের পর থেকে আরমানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, প্রায় তিন বিঘা জমির ওপর থাকা বসতভিটাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় বর্তমানে ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। তার দাবি, বাড়ির মালিক যদি সেখানে বসবাস না করেন, তাহলে প্রশাসনের উদ্যোগে জায়গাটি পরিষ্কার করে অসহায় ও ভূমিহীন মানুষের বসবাসের উপযোগী করে দেওয়া যেতে পারে।
এদিকে পরিত্যক্ত এই বাড়িকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ ও নিখোঁজের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে অটোচালক মেহেদী হাসানের মরদেহ উদ্ধারের পর নিখোঁজ কিশোর আরমানকে ঘিরে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই পরিত্যক্ত বাড়িকে ঘিরে প্রকৃত ঘটনা কী? আর কোনো অপরাধের সঙ্গে জায়গাটির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দ্রুত স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা
