এরপরও জামায়াত পরিস্থিতিটাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় ছিল বলে অভিযোগ করেন রাশেদ। তিনি বলেন, ‘তবে পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্লান ছিলো জামায়াতের। রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করেছিলো। জানিনা, এই লাঠিগুলো পরবর্তীতে বহরের গাড়িতে তোলা হয় কি না। তবে জামায়াতের বহরে শীর্ষ নেতারা উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়েছে, হৈ হৈ রৈ রৈ ছাত্রদল, যুবদল গেলি কই!’রাশেদ খাঁনের দাবি, পুরো লংমার্চটি কার্যত জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলে পরিচালিত হলেও এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে জামায়াত নিজে ঝুঁকি এড়িয়ে পর্দার আড়ালে থেকে রাজনীতি করতে চাইছে। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছে, সবকিছু দেখে মনে হলো, এটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনায়, অর্থায়ন ও জনবলে এনসিপির লংমার্চ। জামায়াত যেহেতু সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না, সেক্ষেত্রে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামীলীগকে পিছনে রেখে, মাঝখানে থেকে খেলতে চায়!’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে জামায়াত শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও একটিভিস্টরা এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র বানানোকে মানতে পারছে না। তাদের মন্তব্য এমন যে, এনসিপি আজ হোক আর আগামীকাল হোক, জামায়াত জোট ছাড়বে। সুতরাং তাদের কেন এতো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে! এনিয়ে সচেতন নেতাকর্মীদের খুব আক্ষেপ পরিলক্ষিত হলো!’জামায়াতের জোট প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের দলসহ জোটে থাকা অন্যান্য দলগুলো মূলত বিএনপির কাছ থেকে পর্যাপ্ত আসন না পাওয়ার কারণেই জামায়াতমুখী হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন ছাড়তে রাজি হলে তারা আবার অবস্থান বদলাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ‘শোনেন, জামায়াত জোটে কারা আছে? এনসিপিকে বিএনপি ৪ টার বেশি আসন ছাড়েনি, এজন্য জামায়াতে গেছে। আর মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপিতেই থাকতো। এছাড়া বাকিরা ১ টা করে আসন না পেয়ে জামায়াতে গেছে। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে, এরা সবাই আবার বক্তব্য পরিবর্তন করে ব্যাক করবে!’
পোস্টের শেষাংশে তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশের মানচিত্রবিরোধী শক্তি হওয়ার অভিযোগ পুনরুল্লেখ করে বলেন, এনসিপি অতীতে জামায়াত সম্পর্কে যেসব কঠোর মন্তব্য করেছিল তা মনে রাখার আহ্বান জানান। রাশেদের ভাষ্য, ‘সবমিলিয়ে জামায়াত যাদের উপর ভরসা রেখে এতো অর্থকড়ি খরচ করছে, তারাই একদিন জামায়াতকে এমন দেওয়া দিবে যে জামায়াত আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না! জামায়াত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানচিত্র বিরোধী শক্তি, ভারতের এক্সটেনশন, সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে, জামায়াত ইসলামিক দল নয় থেকে শুরু করে কি বলে নাই এনসিপি?’
‘তাই বলি, ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকে কিনে রাখুন, কি কি বলবে সেটি নোট করার জন্য! জামায়াতের নেতাকর্মীরা মনে রাখুন, এনসিপি ৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছে। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলেও জনশ্রুতি আছে। আর কিছু বললাম না.... শুধু এতোটুকু বলবে, একদিন আপনারাই বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পোষলাম!’
