সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রীতিতে পরিবর্তন এনে প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনার উদ্যোগ নিয়েছেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। তার নেতৃত্বে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণেই দানের অর্থ গণনা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে সারওয়ার আলম মাজারের দুটি দান ডেগ এবং জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা নতুন দানবাক্স খুলে অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু করান। দুপুর আড়াইটা থেকে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। পরে এ বিষয়ে ভিডিওবার্তা দেওয়ার কথা জানান বিদায়ী এই জেলা প্রশাসক।
এর আগে রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। যদিও ওই প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩০৩ জন সঙ্গী নিয়ে ১৩০৩ সালে সিলেট আগমন করেন এবং এখানে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৩৪৬ সালে সিলেটে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।
শাহজালাল (রহ.)-এর মৃত্যুর পর থেকে তার খাদেম এবং দরগাহর মুতাওয়াল্লিরা (পরিচালনাকারী) প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই মাজারের দেখাশোনা করে আসছেন। শত শত বছর ধরে ভক্তরা এখানে যে মানত বা দান করতেন, তা মাজারের নিজস্ব নিয়মেই খোলা ও হিসাব করা হতো। সরকারি প্রশাসন বা বাইরের সাধারণ মানুষের সেখানে কোনো ভূমিকা ছিল না।
জানা গেছে, গত ৭০০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথমবার প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে একদম উন্মুক্ত ও জনসম্মুখে দানবাক্স খোলা হয়েছে। এর আগে কখনও এভাবে সবার সামনে বা জনসম্মুখে মাজারের দানের টাকা আনা হয়নি। অতীতে যখনই দানপাত্র বা ডেকগুলো খোলা হতো, তা সম্পূর্ণ গোপন বা ঘরোয়াভাবে মাজারের খাদেম ও মুতাওয়াল্লিদের (পরিচালনাকারী) উপস্থিতিতে করা হতো। সেখানে কত টাকা জমা হলো, স্বর্ণালংকার কতটুকু পাওয়া গেল—তার কোনো লিখিত বা সুনির্দিষ্ট হিসাব সাধারণ মানুষ কিংবা গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হতো না।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে মাজারে থাকা সিলগালা করা দানের ডেগগুলো খুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় স্থাপন করা দানবাক্সগুলোও খোলা হয়। গত কয়েক দিনে জমা হওয়া অর্থের হিসাব নিতে প্রকাশ্যেই টাকা গণনার কাজ শুরু করা হয়। পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম।
জানা যায়, বেলা ১টা ১৫ মিনিটে শাহজালালের মাজারে উপস্থিত হন বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। বিদায়ের আগে মাজারে জেলা প্রশাসকের এই আকস্মিক উপস্থিতিতে দেখা দেয় সবার মাঝে কৌতূহল। এরপর খুলে দেন সিলগালা করা তিনটি ডেগের তালা। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা দানবাক্সগুলো খুলে জনসম্মুখে টাকা গণনার কাজ শুরু করেন।
কাজী জহিরুল ইসলাম (বাবুল)