পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জারাহ।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুরো পরিসর পর্যালোচনা করেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শ্রম, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, খনিজ, প্রতিরক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় উভয় পক্ষ নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সফর এবং প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে সহযোগিতাকে আরও কাঠামোবদ্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয়। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামগুলোতেও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তান সরকার ও জনগণের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানান। এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারির সময় কুয়েতকে পাকিস্তানের সহযোগিতারও প্রশংসা করেন।
ইসহাক দার বলেন, কুয়েতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং সব ক্ষেত্রে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণে আগ্রহী।
দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য ও ফিলিস্তিনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও মতবিনিময় করেন। এ সময় শেখ জারাহ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এদিকে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে আরও বিস্তৃত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে পাকিস্তান। তবে আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়লে তা জটিল হয়ে উঠতে পারে।
২০২৩ সাল থেকে প্রশিক্ষণ ও যৌথ সামরিক মহড়াভিত্তিক সীমিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে। এখন কুয়েত সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো আরও বিস্তৃত একটি চুক্তি চায়। পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তার দাবি, এতে হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
তবে পাকিস্তান এতটা বিস্তৃত প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় রাজি হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কয়েক দশকের কৌশলগত মিত্রতার ফল।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে কুয়েত ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) কয়েকটি দেশের ওপর নতুন করে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
