এর আগে, গত ২০ মে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে তার লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২৪ মে আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন।পরে ওই আদেশ বাতিল চেয়ে বাদীপক্ষ আবেদন করলে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।
পরে গত ২২ জুন সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশের অনুলিপি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ।
ওই সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ তুলে মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের আবেদন জানান তিনি। আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগও তদন্ত করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সংস্থাটি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত সেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা করেন। তার মৃত্যুর পর মামলাটি পরিচালনা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। সবশেষ আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লিও (লুসি), অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।
