কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাবেক পৌর সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন সৈকত (৪৫) দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন।রোববার (২৩ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের টিনপট্টি এলাকায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্ত্রী ও মায়ের অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তার চাচাতো ভাইসহ কয়েকজন তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিন তার আবাসিক হোটেলের অফিস থেকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। তাকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক কোপ দেওয়ার পাশাপাশি পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।
পরে পথচারী ও তার স্ত্রী তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ঢাকায় পাঠান। ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত দেড়টার দিকে গাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত আল-আমিন ভৈরব বাজারের একজন ব্যবসায়ীও ছিলেন। তিনি পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আড়াই ব্যাপারীর বংশের মৃত জসীম মিয়ার ছেলে।
আল-আমিনের বন্ধু তমাল আহমেদ বলেন, রোববার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে তার আবাসিক হোটেলে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। পরে আমি বাসায় চলে যাই এবং সে মোটরসাইকেলে করে বাসায় যায়। বাসায় পৌঁছানোর পরই দুর্ঘটনার খবর পাই। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, বলতে পারছি না।
নিহতের চাচাতো ভাই আরাফাত (বড় মিয়া) জানান, কয়েকজন মিলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথেই গাড়িতে তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার তার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে ভৈরবে নেওয়া হবে।
নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম বলেন, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার সঙ্গে আমার কথা হয়। তিনি আমাকে বলেন, ভাত রেডি করতে, বাসায় এসে খাবেন। এর কিছুক্ষণ পর একজন লোক বাসায় এসে জানান, আল-আমিন রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজনের সহায়তায় তাকে চিকিৎসার জন্য রিকশায় তুলি।
তানিয়া আরও বলেন, এ সময় আমার স্বামী বলেন, চাচাতো ভাই জুম্মন, হাসানসহ তিন-চারজন মিলে তাকে কুপিয়ে আহত করেছে। তার চাচা মমিন মিয়া ও চাচাতো ভাই রৌদ্র ওরফে বাবুও এ ঘটনায় জড়িত বলে তিনি জানান। এরপর তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।
তানিয়ার অভিযোগ, মমিন মিয়ার সঙ্গে তার স্বামীর দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিল। তিনি স্বামী হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
নিহত আল-আমিনের মা মিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে জুম্মন, হাসান, রৌদ্র ও তাদের বাবা মমিন কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই।
ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আল-আমিনের ওপর হামলার খবর আমি রাতেই পেয়েছি। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, আল-আমিনের লাশ এখনো ভৈরবে পৌঁছায়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত হচ্ছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
