ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ক্যালেন্ডার বদলেছে, স্বপ্ন থামেনি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 24, 2026 ইং
ক্যালেন্ডার বদলেছে, স্বপ্ন থামেনি ছবির ক্যাপশন:
কতবার দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে, কতবারই বা পিছিয়েছে! ২০২৩ সালে হওয়ার কথা ছিল, হয়নি। তারপর ২০২৪, ২০২৬সাল।ক্যালেন্ডারের পাতায় তারিখ এসেছে, আবার মুছেও গিয়েছে।দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়াবিদেরা অপেক্ষা করেছেন, ফেডারেশনগুলো প্রস্তুতি নিয়েছে, আবার থেমেছে। এবার সেই অপেক্ষার শেষ। ইসলামাবাদে দক্ষিণ এশিয়া অলিম্পিক কাউন্সিলের (এসএওসি) নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে ৩ থেকে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানে বসছে ১৪তম এসএ গেমস।

২৩ থেকে ৩১ মার্চ গেমস আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। জানুয়ারিতে তাসখন্দের সভাতেও সেই সূচি ঠিক ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের প্রস্তাবে এবার বদল এল। নয় দিনের প্রতিযোগিতা হবে এপ্রিলের প্রথম ভাগে। ইসলামাবাদ, লাহোরের সঙ্গে আয়োজক শহর হিসেবে থাকছে পেশোয়ারও। তিন শহরে ২৮টি ভেন্যুতে হবে ২৮টি খেলার লড়াই।

৩৪৬টি মেডেল ইভেন্ট। ৩৪৬টি  স্বর্ন,৩৪৬টি রুপা এবং ৫১৫টি ব্রোঞ্জ পদকের জন্য লড়বেন দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়াবিদেরা। প্রাথমিক হিসাবে সাত দেশের ৩ হাজার ১৭২ জন ক্রীড়াবিদ এবং ১ হাজার ১৯ জন কর্মকর্তা থাকবেন।

বাংলাদেশের প্রাথমিক দলেই ৪৮২ জন ক্রীড়াবিদ। সঙ্গে ১২২ কর্মকর্তাসহ ৬০৪ জন। ভারতের ৪৭২ ক্রীড়াবিদ ও ২০২ কর্মকর্তা, পাকিস্তানের ৬৭০ ক্রীড়াবিদ ও ২০২ কর্মকর্তা, নেপালের ৫৩২ ক্রীড়াবিদ ও ১৫৩ কর্মকর্তা, শ্রীলঙ্কার ৬৭০ ক্রীড়াবিদ ও ২৫১ কর্মকর্তা, মালদ্বীপের ২৬১ ক্রীড়াবিদ ও ৬৮ কর্মকর্তা এবং ভুটানের ৮৫ ক্রীড়াবিদ ও ২১ কর্মকর্তা। অবশ্য এই সংখ্যা এখনও প্রাথমিক। চূড়ান্ত এন্ট্রির সময়ে বদলাতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় খেলার মাঠ কখনও কখনও রাজনীতির চেয়েও বড় হয়ে ওঠে। সীমান্তের কাঁটাতার থাকে, কূটনৈতিক টানাপড়েন থাকে, থাকে দুই দেশের সম্পর্কের ওঠানামা। কিন্তু ট্র্যাকে দাঁড়ালে প্রতিপক্ষ শুধু প্রতিপক্ষই। একই পুলে ঝাঁপ দেন দুই দেশের সাঁতারু, একই কোর্টে লড়েন শাটলার, একই ম্যাটে কুস্তিগির। সাত দেশের পতাকা তখন পাশাপাশি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপ।

সর্বশেষ ২০১৯ সালে কাঠমান্ডু ও পোখারায় হয়েছিল এসএ গেমস। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা। দুই বছর অন্তর হওয়ার কথা থাকলেও ১৪তম আসর বারবার পিছিয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪, পরে ২০২৬। শেষ পর্যন্ত ২০২৭। প্রায় আট বছর বাদে আবার একই মঞ্চে মিলবেন দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়াবিদেরা।

এবার খেলার তালিকাটিও চূড়ান্ত। থাকছে অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, আরচারি, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, বিলিয়ার্ডস ও স্নুকার, বক্সিং, ক্রিকেট, ফেন্সিং, ফুটবল, গল্ফ, হ্যান্ডবল, হকি, জুডো, কাবাডি, কারাতে, রোয়িং, রাগবি, শুটিং, স্কোয়াশ, টেবিল টেনিস, তায়কোয়ান্দো, টেনিস, ট্রায়াথলন, ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও উশু।

বাস্কেটবলে থাকবে ৩x৩ ও ৫x৫। ভলিবলে ইনডোরের পাশাপাশি বিচ ভলিবল এবং হ্যান্ডবলে বিচ হ্যান্ডবলের ব্যবস্থাও রয়েছে। রাগবি, বিলিয়ার্ডস-স্নুকার, হকি, বিচ ভলিবল ও বিচ হ্যান্ডবল পুরুষদের জন্য। বাকি খেলাগুলোর অধিকাংশেই নারী ও পুরুষ দুই বিভাগে প্রতিযোগিতা হবে। ২৮টির মধ্যে ২৫টি খেলায় নারীদের অংশগ্রহণ থাকবে।

২০১৯ কাঠমান্ডু-পোখারা গেমসে বাংলাদেশ জিতেছিল ১৯টি স্বর্ণ,৩২টি রুপা ও ৮৭টি ব্রোঞ্জসহ ১৩৮টি পদক। এবার সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ।

শুটিং, অ‍্যারচারি, ভারোত্তোলন, কাবাডি, তায়কোয়ান্দো, কারাতে, টেবিল টেনিস, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসে বাংলাদেশের পদকের সম্ভাবনা থাকে। ক্রিকেট ও ফুটবলেও থাকবে প্রত্যাশা। তবে দক্ষিণ এশিয়ার এই আসরে পদক জিততে শুধু তারকা থাকলেই হয় না। চাই দীর্ঘ প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং শেষ দিন পর্যন্ত পরিকল্পনা ধরে রাখার ক্ষমতা।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা ইসলামাবাদের সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ইসলামাবাদে হবে ১৫টি খেলা। জিন্নাহ স্পোর্টস স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটিকস ও ফুটবল, রোডহাম হলে ব্যাডমিন্টন, লিয়াকত জিমনেশিয়ামে বাস্কেটবল, আর্মি জিমনেশিয়ামে বিলিয়ার্ডস ও স্নুকার, আমির খান হলে কারাতে ও ভারোত্তোলন, পাকিস্তান স্পোর্টস কমপ্লেক্সে কাবাডি ও উশু, মুশাফ স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে স্কোয়াশ, হামিদি হলে টেবিল টেনিস, পাকিস্তান টেনিস ফেডারেশন টেনিস কমপ্লেক্সে টেনিস, গুলবার্গ গ্রিনসে ট্রায়াথলন, রাওয়ালপিন্ডির রাওয়াল লেকে রোয়িং এবং গান অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে শুটিং হবে।

লাহোরে হবে বক্সিং, ক্রিকেট, ফেন্সিং, গল্ফ, হ্যান্ডবল, হকি, রাগবি, সাঁতার, তায়কোয়ান্দো ও কুস্তি। প্রস্তাবিত ভেন্যুগুলির মধ্যে রয়েছে গাদ্দাফি ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ইউনিভার্সিটি অব লাহোর, রায়া গল্ফ ক্লাব, জিন্নাহ স্পোর্টস কমপ্লেক্স, ক্যাপ্টেন ফাসিহ শহীদ স্পোর্টস হল, ডিএইচএ, ন্যাশনাল হকি স্টেডিয়াম, আয়ুব স্টেডিয়ামের ফুটবল গ্রাউন্ড এবং পাঞ্জাব ইন্টারন্যাশনাল সুইমিং কমপ্লেক্স।

পেশোয়ারে হবে অ‍্যারচারি,জুডো ও ভলিবল। অ‍্যারচারি ও ভলিবলের জন্য কাইয়ুম স্টেডিয়াম এবং জুডোর জন্য পিএএফ স্পোর্টস হল প্রাথমিক ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত।

গেমসের আর একটি প্রতীকী মুহূর্তও সামনে। পাকিস্তান আয়োজন করবে ‘১০০ ডেজ টু গো’ অনুষ্ঠান।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার শুধু দিন গোনার পালা নয়। বাংলাদেশের ৪৮২ ক্রীড়াবিদেরও সামনে এখন নিজেদের তৈরি করার সময়। কারও চোখে স্বর্ণ, কারও স্বপ্ন পডিয়াম, কারও লক্ষ্য শুধু জাতীয় পতাকাটা একবার ওপরে ওঠানো। কেউ প্রথমবার নামবেন দক্ষিণ এশিয়ার বড় মঞ্চে, কেউ হয়তো শেষ বার। ৩ এপ্রিল ২০২৭। পাকিস্তানের মাটিতে উঠবে পর্দা। ১১ এপ্রিল নামবে।

সাত দেশের পতাকা উড়বে পাশাপাশি। প্রায় ৩ হাজার ২০০ ক্রীড়াবিদ লড়বেন ২৮টি খেলায়, ৩৪৬টি মেডেল ইভেন্টে। দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ছিল এসএ গেমস হবে তো? এবার তার উত্তর মিলেছে। এখন অপেক্ষা অন্য প্রশ্নের দক্ষিণ এশিয়ার সেরা কে?

প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতির গুলশানের বাড়িতে পরিচ্ছন্নতা ও রঙের কা

Logo

ক্যালেন্ডার বদলেছে, স্বপ্ন থামেনি

dailyneighbour.com
নিউজ লিংক কমেন্টে
Aug 24, 2026