ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দুই বছর পর ওয়ানডেতে ফিরছেন কামিন্স

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 24, 2026 ইং
দুই বছর পর ওয়ানডেতে ফিরছেন কামিন্স ছবির ক্যাপশন:
প্রায় দুই বছর পর আবারও ওয়ানডে ক্রিকেটে দেখা যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে। তবে ওয়ানডেতে ফেরার মূল কারণ ৫০ ওভারের ক্রিকেট নয়, বরং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি। টেস্টকে সামনে রেখেই ওয়ানডে সিরিজের কয়েকটি ম্যাচে খেলতে চান অজি পেসার।দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে কামিন্সের সঙ্গে ওয়ানডে দলে যোগ দিতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের আরও দুই বড় তারকা মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড। বিশ্বকাপের পর থেকে তারাও ওয়ানডেতে নিয়মিত ছিলেন না।

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর কামিন্স মাত্র দুটি ওয়ানডে খেলেছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে মেলবোর্ন ও অ্যাডিলেইডে হওয়া ম্যাচ দুটিই ছিল তার সর্বশেষ ওয়ানডে। সেই সিরিজেই শেষবার একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে খেলেছিলেন কামিন্স, স্টার্ক ও হ্যাজেলউড।

চোট, বিশ্রাম এবং টেস্ট ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে গত দুই বছরে ওয়ানডে থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন কামিন্স। তার অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্টিভেন স্মিথ, মিচেল মার্শ ও জশ ইংলিস।

স্টার্ক ও হ্যাজেলউডও অবশ্য খুব বেশি ওয়ানডে খেলেননি। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর অস্ট্রেলিয়া মোট ২৮টি ওয়ানডে খেলেছে। এর মধ্যে স্টার্ক খেলেছেন মাত্র ৭টি এবং হ্যাজেলউড ১১টি। দুজনের সর্বশেষ ওয়ানডে ছিল গত বছরের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে।দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে আগামী ৯ অক্টোবর। তার আগে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ওয়ানডে সিরিজ। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। তবে সেখানে থাকছেন না কামিন্স।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষ করে কামিন্স জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজের কিছু ম্যাচে খেলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তবে তার মূল লক্ষ্য থাকবে লাল বলের ক্রিকেট।

কামিন্সের ভাষায়, দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে সিরিজের ছয় ম্যাচের মধ্যে তিনি সম্ভবত এক থেকে তিনটি ম্যাচ খেলতে পারেন। তার মতে, ওই সিরিজের প্রস্তুতিও মূলত টেস্টকে কেন্দ্র করেই হবে। বাংলাদেশের সিরিজের পর কিছুদিন বোলিং থেকে বিশ্রাম নিয়ে জিম অনুশীলন চালিয়ে যাবেন এবং এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজের প্রস্তুতি শুরু করবেন তিনি।

ফক্স স্পোর্টসের সঙ্গে আলোচনায় স্টার্ক ও হ্যাজেলউডও একই ধরনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে ওয়ানডেতে ফেরার পেছনে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট সিরিজই প্রধান কারণ হলেও আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপও অস্ট্রেলিয়ার ভাবনায় রয়েছে। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই বেশিরভাগ ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। একই সময়ে তাদের সামনে রয়েছে ব্যস্ত টেস্ট সূচি—এক বছরের মধ্যে প্রায় ২০-২১টি টেস্ট খেলার চ্যালেঞ্জ। ফলে আপাতত টেস্ট ক্রিকেটই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সফরটিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত বল টেম্পারিং কাণ্ডের পর এই প্রথম দেশটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দলের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল। তবে গত বছর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

নিজেদের ঘরের মাঠে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজটি কঠিন হবে বলেই মনে করছেন কামিন্স। দুই বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভালো সিরিজ খেললেও গত বছর লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল তার দল।

এবার দক্ষিণ আফ্রিকার ভিন্ন কন্ডিশন, অপরিচিত পিচ এবং আলাদা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। তবে এই ভিন্নতাই টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য বলে মনে করেন কামিন্স। নতুন পরিবেশে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে তাই মুখিয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।

প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স
Logo

দুই বছর পর ওয়ানডেতে ফিরছেন কামিন্স

dailyneighbour.com
নিউজ লিংক কমেন্টে
Aug 24, 2026