১৫ আগস্টে শোক পালন করতে গিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে পৃথক মামলার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
আসামিদের মধ্যে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন অর্নব দাস (৩২) নামে এক যুবক। তাকে ঢাকার ধানমন্ডি থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।১৫ আগস্ট রাত ২টা ৪৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গেটের সামনে রাস্তায় খাবার বিতরণের সময় গ্রেপ্তার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র মিরাজুল ইসলাম ও বিজয় ৭১ হলের ছাত্র আ. কাদের। এ ঘটনার সময় বাকি ১০/১৫ জন পালিয়ে যান বলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।অন্যদিকে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর রুপনগর আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সজল ওরফে কাজলকে। এরপর তাকে ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর রুপনগর থানাধীন বিইউবিটির সামনে রাস্তার ওপর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের অভিযোগে রুপনগর থানার এক সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে, শনিবার সকালে ১০টার দিকে ধানমন্ডি-৩২ নম্বর থেকে অর্নব দাসকে আটক করা হয়। পরে তাকে ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়। গ্রেপ্তার ওই যুবক যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে পুলিশ দাবি করেছে। তাকে বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন মিয়া জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়।
পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শুনানিকালে তাকে আদালতের এজলাসে ওঠানো হয়নি।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ ও সহযোগিতায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র করে মিছিলে সমবেত হয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করে তোলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং জনজীবন বিপন্ন করার চেষ্টা করেন। ওই ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক বাবন উদ্দিন সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
