জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থাকা ২৮৪ শতক জমি ও দুটি জিপ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার সম্পদের অভিযোগ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা আদালতে এ-সংক্রান্ত আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মুজিবুল হক সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে ও অসৎ উদ্দেশ্যে ৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রাখেন। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মুজিবুল হক তার নামে ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন।
মামলা নিষ্পত্তির আগে এসব সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন।
মুজিবুল হকের স্ত্রীর সম্পদও অবরুদ্ধ
এর আগে গত বছর ১৩ অক্টোবর মুজিবুল হকের স্ত্রী হনুফা আক্তার রিক্তার জমি, ফ্ল্যাট ও তার নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন আদালত।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
অবরুদ্ধ সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই মৌজায় সাড়ে ৩৩ শতক জমি এবং রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় ৪ হাজার ৭৮০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট। এসব সম্পত্তির বাজারমূল্য ১ কোটি ৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বলে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া হনুফা আক্তার রিক্তার নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
