নিয়োগের চাহিদা পত্র সত্যায়নের প্রয়োজন কি?
এক কথায় উত্তর যে কোন দেশেই শ্রমিক নিয়োগ চাহিদা পত্রে সত্যায়নের কোন প্রয়োজন নেই।
আমার জানা মতে তৎকালীন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে,১৯৭৬ সালে সৌদি আরব থেকে শুরু করে অদ্যবদি বাংলাদেশের জন্য পৃথিবীর কোন শ্রমবাজার সত্যায়ন পদ্ধতি দিয়ে শুরু হয়নি।
পৃথিবীর সকল দেশেই দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়ন ব্যতীতই জনশক্তি প্রেরণ কারী প্রতিষ্ঠান রিক্রুইটিং এজেন্সির মালিকদের অক্লান্ত চেষ্টার ফলে নতুন নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়ে, যখন কয়েক হাজার শ্রমিক সংশ্লিষ্ট দেশে গিয়ে রেমিট্যানস পাঠানো শুরু করে, তখনই সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নজরে আসে, যে ওমক দেশে হাজার হাজার শ্রমিক কিভাবে পাড়ি জমিয়েছে।
এবং বাংলাদেশের রেমিট্যানস প্রবাহ দ্রুত এগিয়েই যাচ্ছে।ঠিক তখনই আমাদের শ্রমবাজার প্রতিযোগী দেশ গুলো আমাদের দেশের সরকারের দায়িত্ব প্রাপ্ত এজেন্সিতে আমাদের শ্রমবাজার ধ্বংসের জন্য এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে ,দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়নের নামে শ্রমবাজার কে হুমকির সম্মুখীন করে তুলে।
পৃথিবীর কোন দেশেই এই সত্যায়ন এবং বি এম ই টি কর্তৃক ইস্যু কৃত কার্ড শ্রমিকদের চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না।
বি এম ই টি শুধুমাত্র একটি নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। এখানে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কয়েক শত লোকের কর্মসংস্থান। এদের বেতন ভাতাদি মেটানোর জন্য বি এম ই টির কার্ড ইস্যুবাবদ একটা নির্ধারিত আর্থিক ফি আদায় করে মাত্র।
২০০১ সালের ২০শে ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া পৃথিবীব্যাপী চড়িয়ে চিটে থাকা জনশক্তি প্রেরণ কারীদের প্রেরিত লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের সুরক্ষা ও জনশক্তি প্রেরণের সাথে সম্পৃক্ত রিক্রুইটিং এজেন্সির মালিকদের সহযোগিতার জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রিক্রুইটিং এজেন্সির মালিকদের এত অবদানের পরেও সহযোগীতা দুরের কথা, সরকারের মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বি এম ই টির সত্যায়নের যাচাই করার অজুহাতে হাজার হাজার বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নকে ঘুড়েবালি করে দিচ্ছেন।
অতএব সরকারের প্রতি আমার আহ্বান। সত্যায়ন পদ্ধতি বন্ধ করে, বিদেশগামী শ্রমিকের দায়িত্ব ভার রিক্রুইটিং এজেন্সির মালিকদের দায়িত্বে তিনশত টাকার জুডিসিয়াল সটামপের মাধ্যমেই অতি দ্রুত নিয়োগ অনুমতি প্রদান করুন।
সরকারের প্রাপ্য রেভিনিউ ফী আদায় করে দেশেকে,দেশের হত দরিদ্র বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিন।
আপনারা এই সহজ পদ্ধতিতে সুযোগ করে না দিলে, তারা ঠিকই, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কঠিন পথ অবলম্বন করে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অধিকাংশই সফল হয় এবং তাদের গন্তব্যে ঠিকই পৌছে। এদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষের সলিল সমাধী ঘটে, যাদের অভিশাপ আপনাদের উপরেই পড়ে।
