ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জনগণনায় জাতিগত পরিচয় নথিভুক্তির পদ্ধতি নিয়ে কংগ্রেসের আপত্তি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 25, 2026 ইং
জনগণনায় জাতিগত পরিচয় নথিভুক্তির পদ্ধতি নিয়ে কংগ্রেসের আপত্তি ছবির ক্যাপশন:

ভারতে আসন্ন জনগণনায় জাতিগত পরিচয় নথিভুক্তির পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলল কংগ্রেস। জাতিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য কেন্দ্র যে প্রশ্নমালা তৈরি করেছে, তা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে বর্তমান পদ্ধতি বদলের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সরকারি সুযোগ সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে সঠিক জাতিগত পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে ভুল থাকলে পুরো জনগণনার ফলাফলই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এমন প্রশ্নমালা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে আরও নির্ভুল পদ্ধতিতে জাতিগত তথ্য সংগ্রহের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে খড়্গে এবং রাহুল জানিয়েছেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে একই জাতি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে একই জনগোষ্ঠীর স্থানীয় নাম বা উপগোষ্ঠীর নামও রয়েছে। সেই সব নাম আলাদা আলাদা করে নথিভুক্ত করা হলে একই জাতি বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। ফলে প্রকৃত জনসংখ্যার হিসাব পাওয়া কঠিন হবে।

কংগ্রেসের আশঙ্কা, এই পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হলে বিপুল সংখ্যক আলাদা শ্রেণি তৈরি হতে পারে। পরবর্তীতে সেই তথ্য বিশ্লেষণ এবং সরকারি নীতি নির্ধারণেও সমস্যা দেখা দেবে। কোনও জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা সঠিকভাবে নথিভুক্ত না হলে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব হবে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কংগ্রেসের বক্তব্য, দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে তাদের প্রকৃত সংখ্যা এবং সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য প্রয়োজন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সংরক্ষণ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা সংক্রান্ত নীতি আরও কার্যকর করা সম্ভব।

প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, জনগণনার সঙ্গে জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে না। তবে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে এ নিয়ে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়। বিভিন্ন মহল থেকে জাতগণনার দাবি জোরালো হওয়ার পর কেন্দ্র নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। পরে জানানো হয়, জনগণনার সঙ্গেই জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।২০২৭ সালের ষোড়শ জনগণনার প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে ৩৩টি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে প্রশ্নের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০ করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণনার তথ্য সংগ্রহের সময় ধর্মীয় পরিচয় এবং জাতিগত পরিচয় সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হবে। বিশেষ করে তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির অন্তর্ভুক্ত কি না, সেই তথ্যও নথিভুক্ত করা হবে।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের দাবি, জাতিগত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে একই জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন স্থানীয় নামের কারণে আলাদা আলাদা শ্রেণি তৈরি না হয়। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন হলে প্রশ্নমালা নতুন করে তৈরি করারও দাবি জানিয়েছে দলটি। জাতগণনা নিয়ে কেন্দ্র এবং বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই খড়্গে ও রাহুলের এই চিঠি নতুন করে বিষয়টিকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এল

প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকার বিষয়ে যে নির্দেশনা এলো

Logo

জনগণনায় জাতিগত পরিচয় নথিভুক্তির পদ্ধতি নিয়ে কংগ্রেসের আপত্তি

dailyneighbour.com
নিউজ লিংক কমেন্টে
Aug 25, 2026